May 27, 2024, 6:46 am

বিশ্ব পানি দিবস– উপকূলে সংকট কাটল না সুপেয় পানির : সাতক্ষীরায় খাবার পানির দাবীতে বিক্ষোভ

বিশ্ব পানি দিবস– উপকূলে সংকট কাটল না সুপেয় পানির : সাতক্ষীরায় খাবার পানির দাবীতে বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোটার:   মাহে রমজান ও তীব্র গরম আসার আগেই সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে তীব্র খাবার পানি সংকট দেখা দিয়েছে। চারদিকে থইথই করছে পানি। কিন্তু খাওয়ার পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। খাওয়ার পানি আনতে গিয়ে প্রতিদিন দুবারে ৪-৫ ঘণ্টা ব্যয় করতে হচ্ছে উপকূলের অধিকাংশ বাড়ির নারীদের। গ্রীষ্মের দাবদাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংকট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। এরই মধ্যে গতকাল বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার সুন্দরবনের মালঞ্চ নদী উপকূলে নিরাপদ পানির দাবিতে নদীতে খালি কলস ভাসিয়ে ও সড়কে খালি কলস উল্টে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে নারীরা। শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে দিনব্যাপী এই পানি দিবসের আয়োজন করে সুশীলন। অন্যদিকে”শান্তির জন্য পানি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন সাতক্ষীরা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে পানির অপব্যবহার রোধ করতে জনগণের সহযোগীতা কামনা করেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল শ্যামনগর উপজেলার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় এ এলাকায় ৪০ শতাংশ মানুষ খাওয়ার পানির সংকটে রয়েছে। তবে বেসরকারী হিসাব মতে এর পরিমাণ আরো বেশি। সাধারণত শীতের মৌসুম থেকে বর্ষা আসার আগপর্যন্ত একটা লম্বা সময় এই দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যেতে হয় এ উপকূলবাসীর। সাতক্ষীরার সুন্দরবনঘেঁষা উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি,কালিগঞ্জও তালা,খুলনার দাকোপ, কয়রা, বাগেরহাটের মোংলা, শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ এলাকায় পানযোগ্য পানি খুবই দুষ্পাপ্য। এসব এলাকার বেশির ভাগ উপজেলায় গভীর নলকূপ কার্যকর নয়। এখানে বসবাসরত মানুষ বর্ষার মৌসুমের বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ৩ থেকে ৪ মাস খাওয়া ও রান্নার কাজে ব্যবহার করে। স্বল্পসংখ্যক পুকুরই তখন হয়ে ওঠে সুপেয় পানির প্রধান উৎস। এসব এলাকার সীমিত সংখ্যক পুকুর, সিডর, আইলা ও আম্ফানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ জলাশয় ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে এ বছর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা জটিল আকার ধারণ করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে সাতক্ষীরায় নিরাপদ খাবার পানির ব্যাপক সঙ্কট চলছে বহু বছর ধরে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে মিষ্টি পানির জলাশয়গুলোতে লবণাক্ততার পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সেই পানি ব্যবহারে বাড়ছে রোগব্যাধি। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর, গাবুরা, রমজাননগর, কৈখালী, মুন্সিগঞ্জ ও গাবুরা ইউনিয়ন মূলত সুন্দরবনের উপকূলীয় জনপদ। এই উপকূলীয় এলাকায় যেদিকে চোখ যায়, শুধু পানি আর পানি। তবে খাওয়ার উপযোগী পানি একটুও নেই।

শ্যামনগর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১ হাজার ৯৪৯টি গভীর (২৫০ ফুটের ওপরে), ৪৯১টি অগভীর (২৫০ ফুটের নিচে), ৫০০টি এসএসটি (৫০ থেকে ১৫০ ফুট) ও ৪৪১টি ভিএসএসটি (৩০ থেকে ৫০ ফুট) নলকূপ রয়েছে। এর মধ্যে ৮টি গভীর, ১২৯টি অগভীর, ১৬টি এসএসটি ও ৪৪টি ভিএসএসটি নলকূপ কয়েক বছর ধরে অকেজো পড়ে আছে। শ্যামনগর উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগ উপসহকারী প্রকৌশলী, মোস্তাফিজুর রহমান, বৃষ্টির অভাব, বন্যায় এলাকায় লবণ পানি ঢুকে যাওয়া এবং পুকুর, জলাধার শুকিয়ে যাওয়ায় আরডব্লিউ এইচ ও পিএসএফ ঠিকভাবে কাজ করছে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন ও লবণাক্ততার সমস্যা দূর করতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো তদারকি না করায় খাওয়ার পানির সংকট বাড়ছে দিন দিন। উপজেলার রমজাননগর এলাকার বাসিন্দা আমান উল্লাহ বলেন, খাওয়ার পানির জন্য তাঁকে প্রতি মাসে হাজার টাকার কাছাকাছি ব্যয় করতে হয়। রান্নাবান্নার পানি আনতে হয় অনেক দূর থেকে। বাড়িতে নলকূপ বসিয়েছেন; কিন্তু পানি ওঠে না।রমজাননগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন জানান, এ অবস্থা শুধু কৈখালী ইউনিয়নে নয়, পার্শ্ববর্তী রমজাননগর, ঈশ্বরীপুর, বুড়িগোয়ালিনী, গাবুরা, পদ্মপুকুর, আঠুলিয়াসহ গোটা উপকূলে একই অবস্থা।

সাতক্ষীরা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘জেলার উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত মানুষের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের অধীনে অন্তত ১৫ হাজার পরিবারের পানির চাহিদা মিটবে। এরই মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে চাহিদার কথা বিবেচনা করে আগামীতে প্রকল্প আরো বাড়ানো হতে পারে।

 

 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2023 satkhirachitra.com
Design & Developed BY CodesHost Limited