January 16, 2020
পবিত্র কোরআনের বর্ণিত ত্বিন ফল এখন সাতক্ষীরায়!

সাতক্ষীরা চিত্র:  সাতক্ষীরায় আসিফুর রহমান নামে এক যুবকের ছাদবাগানে পবিত্র কোরআনের ‘আত ত্বিন’ সুরায় বর্ণিত মরুভূমির ত্বিন গাছে ফল ধরেছে। এই গাছ এবং ফল দেখতে প্রতিদিন তার বাড়িতে অনেকে ভিড় করছেন।

জানা যায়, সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া সরকারপাড়ার যুবক আসিফ একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। কাজের পাশাপাশি শখের বসে কয়েক বছর ধরে নিজের বাড়ির ছাদে বাগান গড়ে তুলেছেন। ২০১৮ সালে এক বন্ধুর মাধ্যমে মিশরীয় একটি ত্বিন গাছ এনেছিলেন তিনি। মরুভূমির এই গাছ বাংলাদেশের মাটিতে বাঁচবে কিনা এমন আশঙ্কা ছিল তার।

প্রথমে অনেকে তাকে বলেছিলেন, এদেশে বৃষ্টি হয়, শীতও পড়ে। আর ত্বিন গাছ হচ্ছে মরুভূমির, সেখানে প্রচন্ড গরম পড়ে। গাছটি এ দেশের আবহাওয়ায় বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম বা বাঁচলেও ফল নাও হতে পারে। কিন্তু সবার ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে তার গাছে অনেক ফল এসেছে। ত্বিন গাছের পাশাপাশি আসিফের ছাদবাগানে জয়তুন গাছও রয়েছে। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত সুরা ‘আত-ত্বিনে’ জয়তুনেরও নাম উল্লেখ আছে।

এছাড়া আসিফের ছাদবাগানে আছে ফুলসহ বিভিন্ন ফল যেমন আলুবোখারা, কয়েক জাতের মালবেরি, লেবু, পেয়ারা, কাশ্মিরি আপেল কুল, বারোমাসি আমড়া, কদবেল, কামরাঙা, মিরাকেল বেরি, কেটবেরি, ব¬্যাকবেরিসহ নানা সবজি, মসলা ও ভেষজ গাছ, যা মানুষের নজর কাড়ছে। যার কারণে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন এগুলো দেখতে।

মেহেরুননেছা মীম নামে এক দর্শণার্থী বলেন, আমি আসিফের ছাদবাগানে যেয়ে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ত্বিন ও জয়তুন গাছ দেখেছি। তার গাছে ত্বিন ফল ধরেছে এবং সেই ফল তিনি আমাকে খাইয়েছেন। ত্বিন ফল খেতে অনেক সুস্বাদু ও রসালো।

বৃক্ষ প্রেমিক তানভীর আহমেদ বলেন, ত্বিন ফল মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ফল। বিশেষ করে মিশর ও ফিলিস্তিন জাত ভালো। এই দুটি জাত বাংলাদেশে ভালো হয়। অনেকেই এখন ছাদবাগানে এই গাছটি লাগাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ ও চারা পেলে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা যেতে পারে।

তানভীর আরও বলেন, ত্বিন ফলের অনেক উপকারিতা আছে। এই ফল কাঁচা থাকতে ছোট্ট থাকে, পাকার আগে হঠাৎ বড় হয়ে যায়। এটি খেতে মিষ্টি এবং সুস্বাদু। পবিত্র কোরআনে ত্বিন গাছেন নাম আছে বলে এটি আমরা কদর করি। আমি এই গাছটি আসিফের ছাদবাগানের পাশাপাশি খুলনা ডিআইজি অফিস ও খুলনায় অনুষ্ঠিত বৃক্ষমেলায় দেখেছি।

ছাদবাগানি আসিফ বলেন, ‘আমি স্কুলজীবন থেকে শখের বসে ছাদবাগান করে আসছি। টাকা জমিয়ে কিনতাম বিভিন্ন গাছ। প্রথমে আমার ছাদবাগানে শুধু ফুল গাছ ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট ছিল। এক হুজুরের মিশর থেকে নিয়ে আসা ত্বিন গাছের ফল দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে খুঁজতে শুরু করি এই গাছ। ২০১৮ সালে এক বন্ধুর মাধ্যমে মিশরীয় একটি ত্বিন গাছ আনিয়েছিলাম। মাত্র ছয় মাসের ভেতর ফল আসে গাছটিতে। এরপর থেকেই সুস্বাদু এই ত্বিন ফলের প্রতি দুর্বলতা বাড়তে থাকে। আমার কাছে এখন এদেশে চাষ উপযোগী কয়েক জাতের ত্বিন গাছ আছে যা অনেক কষ্টে সংগ্রহ করা। মিশর, ফিলিস্তি, সৌদ আরব, তুরস্ক, জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জাতের ত্বিন গাছ সংগ্রহে আছে, যার আকার, রঙ, স্বাদও ভিন্ন ভিন্ন। এছাড়া জয়তুন গাছ দেখতেও অনেকে ছাদবাগানে আসছেন।’

আসিফ আরও বলেন, এই ত্বিন গাছ ৬ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এগুলোর প্রতি পাতার গোড়ায় ফল হয় এবং বেশিরভাগ জাত বারোমাস ফল দেয়। এর আদিনিবাস মধ্যপ্রাচ্য। গাছে যখন ফল আসে তখন এটি সবুজ থাকে। পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটির রঙ পরিবর্তন হতে থাকে। পাকলে জাত ভেদে লালচে, বাদামি, খয়েরি, হলুদ এসব রঙ ধারণ করে। ফলের আকার সাধারণ ডুমুরের চেয়ে অনেক বড় এবং পাকলে দুই, তিনগুণ আকারের হয়, খেতে মিষ্টি, রসালো এবং অনেক সুস্বাদু।’

আসিফ বলেন, ‘যেহেতু মরু অঞ্চলের গাছ তাই বর্ষা ও শীতে মাঝেমধ্যে ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দিতে পারে। তার জন্য অনুমোদিত মাত্রার ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। এই গাছ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্বলিত জৈব উপাদানে সমৃদ্ধ বেলে দোআঁশ মাটিতে খুব ভালো হয়। দিনে ১০-১১ ঘণ্টা রোদ পায় এমন জায়গা এ গাছের জন্য ভালো।’

আসিফ বলেন, ‘পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এই গাছ দুটির (ত্বিন ও জয়তুন) নামে মহান আল্লাহপাক শপথ করেছেন। এ কারণে মুসলিমদের কাছে এই ত্বিন গাছ ও এর ফল ভিন্ন অর্থ বহন করে। ইসলামে এই ত্বিন গাছের বিস্তর ব্যাখ্যা আছে। বিশেষ করে যখন এদেশে ফল ধরে তখন অনেকে খবর পেয়ে গাছটি দেখতে ভিড় করেন।’

আসিফ তার বাগানের বিভিন্ন গাছের যতœ, সার, সেচ ও রোগবালাই দমনে কৃষি সম্প্রসারণের সহায়তা কামনা করেন। যদিও এ পর্যন্ত তিনি কোনও কৃষি কর্মকর্তাকে ডেকেও সাহায্য সহযোগিতা পাননি বলে জানান।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘জেলায় অনেক ছাদবাগান রয়েছে। আর এই বিষয়ে পরামর্শ চাওয়া হলে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সাহায্য করা হয়ে থাকে। আসিফের ছাদবাগানের বিষয় জানা নেই। তবে দ্রুত তার ছাদবাগানটি পরিদর্শন করবো।’

আরো খবর...


সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আমিনুল ইসলাম লাল্টু (উপজেলা চেয়ারম্যান কলারোয়া)

http://satkhirachitra.com e-mail: satkhirachitra@gmail.com cell: 01716300861,01712202907