সাতক্ষীরা সদরের আব্দুল্লাহ এখন টপরেটেড ফ্রিল্যান্সার

0
49

মুহাম্মাদ ওবায়দুল্লাহ,সাতক্ষীরাঃ আব্দুল্লাহ পূর্ণনাম আবু হুরাইরা মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ। মাত্র ২০ বছর বয়সেই সফল ফ্রিল্যান্সার। স্কুল জীবনেই কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে সে। বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণা আর তার নিরন্তর অধ্যবসায়ের কারণে সে এখন দেশের অন্যতম টপরেটেড ফ্রিল্যান্সার।
গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদরের আলীপুরে (চাপারডাঙ্গী) থাকে সে। ২০১৪ সালে আলীপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকেএসএসসি পাশ করার পর সে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হয় তেজগাঁও এর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গ্লাসঅ্যান্ড সিরামিক্স এ । ২০১৯ সালে সফল ভাবে সে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু চাকরি নামের সোনার হরিণের পিছনে না ছুটে সে মনোনিবেশ করে তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি। বাংলাদেশ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রনালয় পরিচালিত লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রজেক্ট সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্স সমাপ্ত করেছে।এনাড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট,মোবাইল গেম অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন,গ্রাফিক্স ডিজাইন

,অটোক্যাড২, এইচটিএমএলএস,বুটস্ট্রাপ৪, জাভাস্ক্রিপ্ট,সিএসএস, ক্যামটাসিয়া স্টুডিও,সনি ভেগাস প্রো প্রভৃতি ভিডিও এডিটিং ও ইন্টারনেট ব্রাউজিং সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর ইতোমধ্যে সে দক্ষতা অর্জন করেছে।
২০১৮ সালের শুরুতে সে বড় ভাই আবুবকরের নির্দেশনায় ফ্রিল্যন্সিং মার্কেট প্লেসে যুক্ত হয়। প্রথমে ঘন্টায় ৩ ডলার পারিশ্রমিকে ডাটা এন্ট্রি শুরু তার ফ্রিল্যন্সিং অধ্যায়।ফাইবার,আপওয়ার্ক,ফ্রিল্যান্স.কম প্রভৃতি মার্কেট প্লেসের মাধ্যমে কাজ করে থাকে। প্রথম কাজে তার আয় হয় ৩৭ ডলার।যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য,অস্ট্রেলিয়া,সুইডেন সহ বিভিন্ন দেশের কাজ করার সুযোগ হয়েছে তার। কার্যাদেশ দাতাদের চাহিদা মত লোগো,ওয়েব ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ,ভিজুয়াল বিজ্ঞাপন,মোশন ডিজাইন,বিজনেস কার্ড,ফ্লায়ার,ব্রুশিওর,আইডি কার্ড,পত্রিকার লেটার হেড প্রভৃতি বিষয়ের কনটেন্ট সুচারূ ভাবে সম্পাদন করেছে।এছাড়া সরকারের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে ‘মোবাইল গেইম ও অ্যাপ্লিকেশন এর দক্ষতা উন্নয়ন(১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায়‘কৃষি তথ্য” নামে একটি অ্যাপ তৈরিতে প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করেছে।এ পর্যন্ত সে তার সব কাজে ৫ রেটিং পেয়েছে।ফলে কার্যাদেশ দাতাদের আস্থা ও মূল্যায়ন আব্দুল্লাহকে করেছে দেশের অন্যতম টপরেটেড ফ্রিল্যান্সার। এখন সে ঘন্টা প্রতি ১৫ ডলার চুক্তিতে কাজ করে। কোন একক কাজে তার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ১০০০ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
তরুন প্রতি কোন পরামর্শ আছে কি না তা জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ জানায়, ফ্রিল্যান্সিংয়ে নতুন হলে পরিশ্রম, দিকনির্দেশনা ও ধৈর্য্য খুবই দরকার। অল্প শিখে মার্কেট প্লেসে প্রবেশ করলে এ পেশার সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। অল্প শিখেই আবেদন না করে বরং অভিজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।পছন্দের বিষয় নিয়ে সব সময় গবেষণা করা, বার বার অনুশীলন করা, অভিজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া, ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখা, প্রয়োজনে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ শিখতে পারলে আল্লাহর রহমতে কোন তরুনকে পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here