আওয়ামী লীগ কর্মী  কনক হত্যায় চুয়াডাঙ্গায়   বিএনপির ৩ জনের ফাঁসির রায় ঘোষণা

0
15

সাতক্ষীরা চিত্র:  চুয়াডাঙ্গা:  বহুল আলোচিত চুয়াডাঙ্গা জেলার আওয়ামী লীগ কর্মী কনক আহাম্মেদ টুটুলকে (২২)  কুপিয়ে হত্যা মামলার ৩ জনের ফাঁসির রায় দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। আজ ২৯ মার্চ বেলা ১১ টার চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ কোটে আইন শৃঙ্খলা বিঘœকারী (দ্রুত বিচার) আইন ২০০২ এর অধীনে বিচারক মোহাম্মদ নাসিম আহমেদ এই রায় ঘোষণা দেন। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন – বিএনপি নেতা মো: কিরণ, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সমাজকল্যাণ সম্পাদিকা জান্নাতুল বাকী ও ও তার স্বামী মুহাম্মদ আমিনুল হক । তবে ৩ জন আসামীই বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
রায় ঘোষণার পর চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোঃ জাহিদুল ইসলাম (এস পি) গণমাধ্যমের কাছে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন তারা দ্রুততার সাথে এ মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করতে পেরেছে।
এদিকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি করার জন্য এই মামলা করা হয়েছে। বিএনপি আরো জানায়, বিরোধী দলীয় শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করতে এই হত্যা মামলা করা হয়েছে এবং দ্রুততার সাথে এর রায় সম্পন্ন করা হয়েছে।
এর আগে ৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ড বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করা হয়। এক মাসের মধ্যে এই মামলার তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট দাখিল করে ডিবি পুলিশ। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয় বিএনপির আহ্বায়ক ও সমাজকল্যাণ সম্পাদিকা জান্নাতুল বাকী ও দুই বিএনপি নেতা মোঃ কিরনের সাথে পূর্ব থেকে কনক আহমেদ টুটুলের শত্রুতার জের ধরেই এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। বিএনপি নেত্রী জান্নাতুল বাকীর স্বামী মুহম্মদ আমিনুল হক প্রত্যক্ষভাবে এই হত্যাকান্ডে অংশ নেয় বলে উল্লেখ করে চার্জশীটে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় দুইজন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন চুয়াাডাঙ্গা সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ নেতা বিপুল ও সদর থানা ছাত্রলীগ কর্মী সিরাজ।
চার্জশিটের সাথে আলামত হিসেবে টুটুলের রক্তমাখা জামা, মোবাইল ও ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি আলামত হিসেবে জমা দেয় আদালতে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলার এজাহারভুক্ত ৩ জন আসামিই পলাতক। বাংলাদেশ সংবিধানের ( ৩৩) ( ৩) ( ১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ৩ ধারা মোতাবেক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
শুনানিতে আরও বলা হয় সরকার পক্ষ থেকে দুইটি লোকাল পত্রিকায় প্রজ্ঞাপন জারি করে আসামিদের সাত দিনের মধ্যে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হবে। উপস্থিত না হলে আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে সমাপ্ত করা হবে। মামলা স্থানান্তারিত হওয়ার দিন থেকে কার্যদিবস গণনা করা হবে। পরবর্তী শুনানির দিন ২৫ ফেব্রুয়ারি এবং মামলার চুড়ান্ত রায়ের দিন ২৯ মার্চ ধার্য করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন এই রায়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মামলাটি তড়িঘড়ি করে রায় প্রদান করা হয়েছে। আ’লীগ নেতা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার এর ক্ষমতা কাছে চুয়াাডাঙ্গাবাসী অসহায় হয়ে পড়েছে। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে চায় না। তার প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অনেকে হত্যা ,খুন ও গুম শিকার হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here